কিছু অপ্রকাশিত যন্ত্রনা ......
আমার নাম রাহি সরকার। আমি উত্তর গরিফা পল্লীমঙ্গল উচ্চ বিদ্যালয় একাদশ শ্রেণির ছাত্রী।আমি আমার জীবনের কিছু অপ্রকাশিত কাহিনী নিচে লিখলাম। আমার জীবনটা ছোট থেকে আলাদা ছিল. আমার পরিবারের অবস্থা ভালো ছিল. মা ভোর থেকে রাত পর্যন্ত অনেক কাজ করতেন, কখনো মানুষের বাড়িতে কখনো অন্য কাজ। আমি চেয়েও মাকে সাহায্য করতে পারতাম না। শুধু নিঃশব্দে দেখতাম…
স্কুলে গিয়ে মনে হতো আমি অন্যরকম, আমার সঙ্গে সব সময় পুরনো বইগুলো ও ছেঁড়া খাতা থাকতো সঙ্গী হয়ে।চেহারাটা নিয়েও অনেকে হাসাহাসি করত সকলে। আমি ছিলাম সকলের হাসির খোরাক।একটা মেয়েদের গ্রুপ ছিল তারা আমাকে নিয়ে হাসতো। কেউ আমার ব্যাগ ছুড়ে ফেলে দিত, কেউ টিফিন নিয়ে মজা করত আবার কেউ কেউ ঠাট্টা চলে আমাকে ধাক্কা দিত।
তারা নিয়ম করে আমাকে বলত, ” তুই কাউকে বলবি না। যদি বলিস তাহলে মার খাবি।” প্রতিদিন এভাবেই হুমকি শুনতে শুনতে আমি চুপ করে যেতাম, ভয় পেতাম, যদি সত্যি আমাকে মেরে দেয় আমি পড়াশোনা খুব ভালো ছিলাম না কিন্তু চেষ্টা করতাম যাতে
অন্তত ভালো করা যায়।
আমি পড়াশুনায় খুব ভালো ছিলাম না, কিন্তু চেষ্টা করতাম। তবুও, শিক্ষকরা ভেবেছিলেন আমি হয়তো অমনোযোগী। কিন্তু, তারা দেখেনি প্রতিদিন কেমন করে আমি ভেতর থেকে ভেঙে যাচ্ছি।বাড়ি ফিরে একা একা কষ্টে কাঁদতাম।মাকে বলতাম না কারণ মা নিজেই এত কষ্টের মধ্যে আছে।
তার ওপর আমার দুঃখের কথা জানিয়ে তার ওপর আমি বোঝা চাপাতে চাইতাম না. বন্ধুদের বলার মতো সাহস পাইনি কারণ ভয় করতাম তারা হয়তো বিশ্বাস করবে না আর আমার ওপর মজা করবে।আজও আমি কাউকে এই কথাগুলো বলে উঠতে পারিনি কিন্তু ভীষণ কষ্ট হয় এবং এই কথাগুলো অপ্রকাশিত থেকে গেছে। মাঝেমধ্যে মনে হয় যদি একবার এই কথাগুলো কাউকে বলতে পারতাম, হয়তো আমি হালকা হতে পারতাম। ,কিন্তু সত্যি কথা বলতে কিছু ব্যথা চেপে রাখতে হয় সারা জীবন …