প্রতিদিনের নিপীড়ন (Bullying) : মানসিক যন্ত্রণা ও আত্মবিশ্বাসের ভাঙ্গন

Author

সন্দীপন ঘোষ

নিপীড়ন (Bullying) বলতে এমন আচরণ বোঝায় যেখানে এক বা একাধিক ব্যক্তি নিয়মিতভাবে অন্যকে মানসিকভাবে, শারীরিকভাবে বা অনলাইনে অপমান করে, অহেতুক চাপ দেয় বা হেনস্তা করে। কিশোর কিশোরীর অগ্রগতি ও আত্মপরিচয় যখন গঠিত হচ্ছে, তখন এই আচরণ তাদের মানসিক স্বাস্থ্যে গভীর ক্ষত সৃষ্টি করতে পারে,তাদের আত্মসম্মান ক্ষুন্ন হয় ,স্বপ্ন ও সম্ভাবনা সংকুচিত হয়।

কিশোর কিশোরী জীবন মানুষের জীবনের এমন এক অধ্যায়, যখন মানসিক গঠন, আত্মবিশ্বাস এবং আত্মপরিচয় ধীরে ধীরে তৈরি হয়। এই সময়ে সামান্য প্রশংসা যেমন একজন কিশোরকে সাহসী করে তুলতে পারে, তেমনি প্রতিদিনের নিপীড়ন ( Bullying) তার ভেতরের শক্তিকে ভেঙে চুরমার করে দিতে পারে। বর্তমান সমাজে নিপীড়ন (Bullying) আর বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়, এটি কিশোর কিশোরীদের দৈনন্দিন বাস্তবতার অংশ হয়ে উঠেছে স্কুল, কোচিং সেন্টার, খেলাধুলার মাঠ, পাড়া-প্রতিবেশী এবং বিশেষ করে অনলাইন জগতে প্রতিদিনই তারা কোন না কোনভাবে নিপীড়নের ( Bullying) শিকার হচ্ছে।

স্কুল এখনো কিশোর-কিশোরীদের জন্য নিপীড়নের( Bullying) সবচেয়ে পরিচিত স্থান । সহপাঠীদের দ্বারা নিয়মিত ঠাট্টা, নানারকম নাম ধরে ডাকা, গায়ের রং, শরীরের গঠন বা আর্থিক অবস্থাকে নিয়ে অপমান অনেক শিক্ষার্থীর কাছে নিত্যদিনের মানসিক নির্যাতন। সাম্প্রতিক সময়ে সংবাদ মাধ্যমে এমন বহু খবর প্রকাশিত হয়েছে, যেখানে স্কুলের ভেতরে নিপীড়নের (Bullying) শিকার হয়ে কিশোর-কিশোরীরা মানসিকভাবে ভেঙে পড়ছে, কেউ স্কুলে যাওয়াই বন্ধ করে দিয়েছে, আবার কেউ চরম হতাশায় ভুগছে, এসব ঘটনা প্রমাণ করে যে নিপীড়ন (Bullying) কেবল ক্ষণিকের দুষ্টুমি নয় বরং এটি কিশোর মনে গভীর ক্ষত সৃষ্টি করে।

নিপীড়নের ( Bullying) সবচেয়ে বিপজ্জনক দিক হলো এটি নীরবে ক্ষতি করে, বাইরে থেকে সবকিছু স্বাভাবিক মনে হলেও ভেতরে ভেতরে একজন মানুষ ভেঙ্গে পড়ে। বিশেষ করে শিশু ও কিশোরদের ক্ষেত্রে এর প্রভাব আরো গভীর, কারণ এই সময়েই আত্মপরিচয় ও আত্মবিশ্বাস গড়ে ওঠে।

বর্তমানে সাইবার নিপীড়ন (Bullying) কিশোর-কিশোরীদের জন্য আরও ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। সামাজিক, যোগাযোগ মাধ্যমে অপমানজনক মন্তব্য, ট্রোলিং, গুজব ছড়ানো বা ব্যক্তিগত ছবি ও ভিডিও নিয়ে হাসি তামাশা মুহূর্তের মধ্যে অসংখ্য মানুষের কাছে পৌঁছে যায়। সাম্প্রতিক খবর গুলোতে দেখা গেছে অনলাইনে নিপীড়নের( Bullying) শিকার হয়ে অনেক কিশোর কিশোরী দীর্ঘদিন মানসিক চাপে ভুগছে, আত্মবিশ্বাস হারাচ্ছে এবং সামাজিক জীবন থেকে নিজেকে গুটিয়ে নিচ্ছে। অনলাইনে এই নিপীড়ন(Bullying) বাস্তব জীবনের গণ্ডি ছাড়িয়ে যায় বলে অপমানের বোঝা তাদের কাছে আরও অসহনীয় হয়ে ওঠে।

খেলাধূলার মাঠ ,কোচিং সেন্টার কিংবা সাংস্কৃতিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্রও নিপীড়নের (Bullying) বাইরে নয়। ভালো খেলতে না পারা, নতুন হওয়া বা আলাদা হওয়ার কারণে অনেক কিশোর কিশোরী দলগত ভাবে হেয় প্রতিপন্ন হয়। সাম্প্রতিক কিছু প্রতিবেদনে উঠে এসেছে , “টক্সিক” কালচারের নামে সিনিয়রদের দ্বারা জুনিয়ারদের অপমান ও মানসিক চাপ দেওয়া হচ্ছে ,যা অনেক ক্ষেত্রে নিপীড়নেরই ( Bullying) একটি রূপ। এই অভিজ্ঞতা কিশোরদের আত্মবিশ্বাসে গভীর আঘাত আনে এবং তাদের আগ্রহ ও প্রতিভা বিকাশের পথ রুদ্ধ করে দেয়।

শুধু স্কুল বা অনলাইন নয়, কোচিং সেন্টার, খেলাধূলার দল কিংবা সাংস্কৃতিক প্রশিক্ষণ কেন্দ্রেও কিশোর কিশোরী বা নিপীড়নের ( Bullying) মুখোমুখি হচ্ছে। সাম্প্রতিক কিছু প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, নতুন বা অপেক্ষাকৃত দুর্বল সদস্যদের নিয়মিত হেয় করা হচ্ছে, অনেক সময় ” মজা ” বা “শাসন” বলে চালানো হয়। এই ধরনের পরিবেশ কিশোরদের মনে ভয় বা লজ্জা তৈরি করে এবং তাদের প্রতিভা বিকাশের পথ বন্ধ করে দেয়। তারা নিজের সক্ষমতা নিয়ে সন্দিহান হয়ে পড়ে এবং ধীরে ধীরে আত্মবিশ্বাস হারিয়ে ফেলে।

দিনের পর দিন এভাবে নিপীড়নের (Bullying) প্রভাব বেড়েই চলেছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে অতি সম্প্রতি ঘটে যাওয়া নিপীড়নের (Bullying) প্রভাব এখানে তুলে ধরা হলো । নয়া দিল্লির দশম শ্রেণীর পড়ুয়া শৌর্য পাটিল শাহরুখ খানের মতো অভিনেতা হওয়ার স্বপ্ন দেখতো । পড়াশোনার ফাঁকে সিনেমার গল্প লিখতো। সেই ছেলেই যখন স্কুলে নাচের ক্লাসে আচমকা পড়ে গেল কয়েকজন শিক্ষক ব্যঙ্গ করে বলেছিল, নাটক করছে, ইচ্ছা করে পড়ে গিয়েছে। নাচের অনুষ্ঠান থেকে ওকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরে এক শিক্ষক বলেছিলেন, “যত খুশি কাঁদো আমার তাতে কিছু যায় আসে না”, গত এক বছর ধরে স্কুলে শিক্ষকদের কাছে হেনস্থা হতে হতে চরম সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছিল শৌর্য পাটিল। স্কুল ছুটির পরে নয়া দিল্লির রাজেন্দ্র প্লেস মেট্রো স্টেশনে গিয়ে ঝাঁপ দেয় সে । তার ব্যাগে পাওয়া সুইসাইড নোট থেকে পুলিশ জানতে পেরেছে কিভাবে তিলে তিলে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিল ঐ কিশোর। মেট্রো স্টেশনে ঝাঁপ দেওয়ার পরে শৌর্যকে হাসপাতালে নিয়ে গেলেও বাঁচানো যায়নি। তার দেহ হাতে পেয়ে নিজের পৈত্রিক ভিটেয় ছেলের শেষকৃত্য সেরেছেন প্রদীপ পাটিল। তিনি জানান মৃত্যুর ঠিক আগের দিনই ছেলেকে কথা দিয়েছিলেন পরের বছরই স্কুল বদলে দেবেন। গত এক বছর ধরে মূলত সমস্যা শুরু কিছু শিক্ষক তাকে নিয়মিত হেনস্তা করে,ব্যঙ্গ করে বলে, সে বারবার অভিযোগ জানিয়েছিল। এ নিয়ে স্কুলের প্রধান শিক্ষিকার সঙ্গে কথা বলেন শৌর্যর বাবা-মা। কিন্তু সমস্যা মেটেনি উল্টে কিশোরের বাবা মাকে জানানো হয়, পড়াশোনায় ছেলে অমনোযোগী । নম্বর কম আসছে, সেই দিকে যেন নজর দেওয়া হয়।

গত কিছুদিন ধরে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে স্কুল পড়ুয়াদের আত্মহত্যার খবর মিলছে। তার অনেকগুলিতে শিক্ষকদের নির্যাতনের অভিযোগ রয়েছে। মহারাষ্ট্রের পালঘরে স্কুলে দেরিতে আসায় ১৩ বছরের ১ কিশোরীকে ভারী ব্যাগ কাঁদে ১০০টি ওঠবোসের শাস্তি দিয়েছিলেন শিক্ষিকা। কিশোরীর পরিবারের অভিযোগ ওই ঘটনার জেরে অসুস্থ হয়ে মেয়ের মৃত্যু হয়েছে। মধ্যপ্রদেশের রেওয়ায় ১৭ বছরের এক স্কুল ছাত্রীর ঝুলন্ত দেহ মেলার খবর মিলেছে। সুইসাইড নোটে শিক্ষকের বিরুদ্ধে শারীরিক নিগ্রহের অভিযোগ তুলেছে সে।

সেপ্টেম্বর ২০২৫-এ জুনাগড়ের আলফা ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের হোস্টেলে দ্বাদশ শ্রেণীর চারজন ছাত্র এক সহপাঠীকে মারধর করে। কবাডি খেলা নিয়ে ঝগড়ার জেড়ে এই ঘটনা ঘটে এবং নির্যাতনের ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়ার পর বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। নভেম্বর ২০২৫-এর একটি ঘটনায় রাজকোটের আশীর্বাদ স্কুলে এক দশম শ্রেণীর ছাত্র ছুরি দিয়ে এক সহপাঠীর হাতে আঘাত করে। হামলাকারী ছাত্রের বাবা মায়ের অভিযোগ তার আগে থেকেই স্কুল কর্তৃপক্ষকে নিপীড়ন (Bullying) সম্পর্কে জানিয়েছিলেন কিন্তু কোন পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। নভেম্বর ২০২৫-এ গুজরাটের বাল চাদি সৈনিক স্কুলে সিনিয়র ছাত্রদের দ্বারা জুনিয়রদের র‍্যাগিং এবং মারধরের একটি ভিডিও সামনে আসে।

এই নিপীড়নের (Bullying) শিকার কেবলমাত্র একটি জায়গাতেই সীমাবদ্ধ নেই দেশের বিভিন্ন জায়গাতেই এর প্রভাব আরো বৃদ্ধি পাচ্ছে। বাংলাদেশের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীর অভিযোগ ছিল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অনার্স পড়ার সময় তিনি কিছু সহপাঠীর মাধ্যমে নিপীড়নের শিকার হয়েছিলেন। কিন্তু কোন প্রতিকার পাননি। তরুণী বলেন তার অভিজ্ঞতা এতটাই ভীতিকর ছিল যে অনার্সের পর তিনি আর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাস্টার্স করেননি। এর পরিবর্তে চাকরিতে যোগ দেন প্রায় এক বছর চাকরি করেন মাস্টার্স করার জন্য গত মাসে তিনি বিদেশে চলে যান । ভুক্তভোগী তরুণী বলেন “আমি কতটা অসুস্থ হয়ে যাচ্ছিলাম বোঝাতে পারবো না “মাস্টার্সে ভর্তি হয়ে দুটি ক্লাস করে আর যাইনি। মা বাবা অবাক হয়েছিলেন তাদের বলেছি আমি ‘বুলিড’ হয়েছি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ওদের সঙ্গে আর পড়বো না । তরুণী বলেন ফেসবুকে কাউকে না কাউকে নিশানা করে নিপীড়ন ( Bullying) করা হতো । কারোর মধ্যে ‘বসিং’ (হুকুমবাজি) প্রবণতা বেশি ছিল। কাউকে প্রশ্ন করা হত এই পোশাকে মানায় না, কার পোশাক পরার ধরন ভালো না, কে কোন সহপাঠীদের সঙ্গে প্রেম শুরু করেছে এসব নিয়ে ক্লাসে গসিপ (পরচর্চা) চলতো। সেইসঙ্গে চলতো ব্যাক বাইটিং (কারুর অনুপস্থিতে নিন্দা করা)। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সহপাঠীদের নিপীড়ন (Bullying) গসিপের কারণে অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন বলে জানান তরুণী । তিনি বলেন মনোবিদের কাছে গিয়ে ছয় থেকে সাতটি কাউন্সেলিং সেশন নিতে হয়েছে তার । তবে তার এই মানসিক হয়রানির বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভাগীয় কর্তৃপক্ষের কাছে গুরুত্ব পায়নি। তরুণীর ভাষ্য, তিনি খেয়াল করলেন, যা তিনি বলেননি ,তা নিয়ে তাকে দোষারোপ করা হচ্ছে। নিপীড়ন (Bullying ) করা হচ্ছে । তারা নারী বিদ্বেষী মন্তব্য করতেন খুব ,একজন ছেলে কথা বলার সময় বাজে দৃষ্টিতে তাকাতেন। একবার একজন শরীরের স্পর্শকাতরস্থানে স্পর্শ করে ‘বেখেয়ালের’ অজুহাত দিতে ‘সরি’ বলেছিলেন।

বিশ্বজুড়ে নিপীড়নের (Bulliyng) শিকার হওয়ার অনেক খবর আসছে, বিশেষ করে স্কুল ও সাইবার জগতে যেখানে কিশোর-কিশোরীরা মানসিক চাপ হয়রানি এবং এমনকি আত্মহত্যার শিকার হচ্ছে যা নিয়ে কানাডা , ইউ.কে. , জাপান ও ভারত সহ বিভিন্ন দেশে উদ্বেগ বাড়ছে, যেখানে শিশুদের মধ্যে সাইবার নিপীড়নের (Bullying) হারও উল্লেখযোগ্য ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে বলে W.H.O এবং অন্যান্য রিপোর্টে উঠে এসেছে । বিভিন্ন দেশে, যেমন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ধারাবাহিক নিপীড়নের(Bullying) শিকার হয়ে একাধিক টিন এজার ও শিশুর( যেমন গ্যাব্রিয়েল প্যাল সিওস, বেলি ক্রেক, অটাম বুশম্যান,হোসে জামোরা) আত্মহত্যার খবর পাওয়া গেছে । ‘এ জেনারেশন এড রিস্ক ‘শীর্ষক রিপোর্টে দেখা গেছে ,কানাডার ৭.১% কিশোর-কিশোরী নিপীড়নের (Bullying) শিকার হয়েছে, যার মধ্যে অনলাইন হয়রানিও রয়েছে এবং উইনিপেগের মতো শহরে স্কুলে নিপীড়ন (Bullying) নিয়ে মায়েদের উদ্বগ বাড়ছে। ইউ.কের সাউথ আফ্রিকান স্কুলে মারামারির ভিডিও শিক্ষকের বিরুদ্ধে নিপীড়নের (Bullying) অভিযোগ এবং ইউ.কে-তে অনলাইনে হয়রানির ঘটনাগুলো সংবাদ শিরোনামে এসেছে। জাপানের একটি স্কুল বা Baseball Tournament এ জুনিয়র খেলোয়াড়দের নিপীড়ন (Bullying) করার ঘটনায় বড় ধরনের কেলেঙ্কারি হয়েছে । ম্যাকাফি -র রিপোর্ট অনুযায়ী, সমীক্ষায় অংশ নেওয়া ৮৫% ভারতীয় শিশু সাইবার নিপীড়নের (Bullying) শিকার হয়েছে, যা বিশ্বের মধ্যে সর্বোচ্চ । বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (W.H.O) তাদের রিপোর্ট অনুযায়ী ৪৪ টি দেশের উপর সমীক্ষায় দেখা গেছে ২০২২ সালে ১১ থেকে ১৫ বছর বয়সী প্রায় ১৬% শিশু সাইবার নিপীড়নের(Bullying) শিকার হয়েছে, যে আগের তুলনায় বেশি।

এই প্রতিদিনের নিপীড়নের (Bullying) প্রভাব কিশোর-কিশোরীদের মানসিক স্বাস্থ্যে মারাত্মক । তারা ধীরে ধীরে নিজেকে মূল্যহীন ভাবতে শুরু করে ,কথা বলতে ভয় পায়। নতুন মানুষের সঙ্গে মিশতে সংকোচ বোধ করে। পড়ার সময় মনোযোগ কমে যায় ,ভবিষ্যৎ নিয়ে তারা আশাহীন হয়ে পড়ে । অনেক সময় পরিবার বা শিক্ষকরা বিষয়টিকে “ছোটখাটো ব্যাপার” বলে এড়িয়ে যান ,কিন্তু বাস্তবে এই অবহেলাই মানসিক যন্ত্রণাকে আরোও গভীর করে তোলে।

সব মিলিয়ে বলা যায়, কিশোর কিশোরীদের জীবনে প্রতিদিনের নিপীড়ন (Bullying) মানসিক যন্ত্রণা ও আত্মবিশ্বাসের ভাঙ্গনের একটি বড় কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে । সাম্প্রতিক খবর ও ঘটনাগুলো স্পষ্ট ভাবে দেখাচ্ছে যে নিপীড়ন(Bullying) এখন আর লুকিয়ে থাকা সমস্যা নয়, এটি প্রকাশ্য সামাজিক সংকট,এই সংকট মোকাবিলায় পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সমাজকে একসঙ্গে আরোও সংবেদনশীল ও দায়িত্বশীল হতে হবে । একটি কিশোরের পাশে দাঁড়ানো,তার কথা মন দিয়ে শোনা এবং নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করাই পারে তার ভেঙ্গে যাওয়া আত্মবিশ্বাস আবার করে তুলতে।

নিপীড়নের(Bullying) মত ঘটনায় ভুক্তভোগীদের মধ্যে নিজেকে গুটিয়ে নেওয়া, ক্লাসে যেতে ভয় পাওয়া, মানসিকভাবে দুর্বল বোধ করা, হীনমন্যতা ,এমনকি অপরাধবোধে ভোগার মত প্রবণতা দেখা যায়। কারোর কারোর ক্ষেত্রে নিজের ক্ষতি করা বা আত্মহত্যায় ঝুঁকতে দেখা যায়। ফলে কেউ নিপীড়নের (Bullying) অভিযোগ করলে তা গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত।

( মতামত লেখকের ব্যক্তিগত)

References:

1.THE RECESS QUEEN by Alexis O’Neill
2.STICK AND STONE by Beth Ferry
3.SPAGHETTI IN A HOT DOG BUN by Maria Dismondy
4.https://www.newindianexpress.com/cities/bengaluru/2022/Aug/10/85-per-cent-indian-kids-victims-of-cyber-bullying-report-2485923.html
5.https://www.prothomalo.com/bangladesh/o04y7lrbwk
6.https://www.epmagazine.com/blog/13-books-to-read-with-kids-about-bullying
7. Picture Courtesy: Pinterest.com

Facebook
Twitter
LinkedIn
WhatsApp

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *