শিশুমনের ভাষা হয়ে ওঠার এক প্রয়াস – ‘এক্কা–দোক্কা’
“Your children are not your children.
They are the sons and daughters of Life’s longing for itself.
They come through you but not from you,
And though they are with you, yet they belong not to you.”
– By Khalil Gibran – “On Children” (from The Prophet, 1923)
আজকের শিশুদের ডিজিটাল জগত ও সৃজনশীল অভিজ্ঞতার পরিধি অনেক বিস্তৃতি লাভ করেছে। তারা বিভিন্ন
মাধ্যমে আর্ট ও কল্পনার জগতে প্রবেশ করছে প্রতিনিয়ত। ফলে তাদের কল্পনাশক্তি এখন সীমাহীন —নতুন কিছু
ভাবার ক্ষমতা তাদের মধ্যে স্বাভাবিকভাবেই গড়ে উঠছে। তাদের নতুন ও সৃজনশীল ভাবনাগুলো অনুধাবন করতেই
জন্ম নিয়েছে আমাদের এই ই–ম্যাগাজিন ‘এক্কা– দোক্কা‘ যেটি একটি মঞ্চ ও পরিসর,
যেখানে শিশুরা তাদের উদ্ভাবনী চিন্তা ও কল্পনাকে ছড়িয়ে দিতে পারে মুক্তভাবে।
শৈশব থেকেই আমাদের ভেতরে নানা রকম চিন্তা–ভাবনার বীজ জন্ম নেয়— কোনওটি ধীরে ধীরে নিজস্ব পরিচয় পায়, আবার কোনোটির অস্তিত্বই হারিয়ে যায় বড় হওয়ার দৌড়ে। বয়সের সঙ্গে সঙ্গে সেই সারল্যের অনুভব ম্লান হয়ে যায়, আর রঙিন সব স্বপ্ন, গল্প, ভাবনারা ধীরে ধীরে ঝিমিয়ে পড়ে।
ওয়ার্ডসওয়ার্থের কথায় বললে , “The Child is father of the Man.” (My Heart Leaps Up)।
এই কাব্যিক সত্য আমাদের মনে করিয়ে দেয়—শিশুর ভিতরেই ভবিষ্যতের মানুষ লুকিয়ে আছে।
তাই,সেই শিশু মনের মণিকোঠায় লুকিয়ে থাকা আবেগকে দৃষ্টিগোচর করা একান্ত আবশ্যক। সাধারণত অবহেলার
কারণে সেগুলি একসময় বিস্মৃতির অতলে তলিয়ে যায়। সেই রঙিন স্বপ্নগুলো হারিয়ে যাওয়ার আগেই সেগুলিকে
আলোয় আনার জন্যেই ‘এক্কা–দোক্কা’ পথচলা শুরু করেছিল।
বিশেষত এই ম্যাগাজিনটি অনলাইনে প্রকাশের মূল উদ্দেশ্য ছিল এই— যাতে পৃথিবীর যে কোনো প্রান্ত থেকে মানুষ এটি পড়তে পারে। শুধু তাই নয়, প্রত্যেকটি সংখ্যা Activism-এর ওয়েবসাইটে সংরক্ষিত থাকে যাতে আগ্রহীরা যেকোনো সময় পড়ে নিতে পারেন। আমাদের সপ্তম সংখ্যার জন্য আমরা আবারও বেশ কিছু কিশোর–কিশোরীর সাড়া পেয়েছি, যারা আনন্দের সাথে তাদের আঁকা ছবি, লেখা, কবিতা, গল্প ও প্রচ্ছদ আমাদের সঙ্গে ভাগ করে নিয়েছে।
এই সংখ্যার পাতায় পাতায় যেমন উঠে এসেছে একাধিক কবিতার বহিঃপ্রকাশ , আবার ছোট্ট হাতে বাগান সাজানোর গল্প। কখনো মনের না বলা কষ্টের সংলাপ আবার কখনো অদৃশ্য দেয়াল এর প্রতিচ্ছবি। কোনো কবিতায় ধরা পড়েছে ‘কবিতার‘ জয়জয়কার ও স্বার্থকতা। সব মিলিয়ে সকল ছোট্ট বন্ধুদের সহযোগিতায় আমাদের সপ্তম সংখ্যা হয়ে উঠেছে আবারো পরিপূর্ণ।
তবে এটাও স্বীকার করতেই হবে— ‘এক্কা–দোক্কা’র সপ্তম সংখ্যাটি বাস্তবায়িত করতে Activism Foundation-এর সমস্ত সদস্য ও আজীবন সদস্যদের অবদান ছিল অপরিসীম। তাঁদের সহযোগিতাতেই আমরা বহু ছাত্র–ছাত্রীর কাছে পৌঁছাতে পেরেছি এবং তাদের শিল্পীসত্তাকে প্রকাশের সুযোগ করে দিতে পেরেছি। আর যাঁরা প্রথম থেকে
শেষ পর্যন্ত নিষ্ঠা ও আগ্রহ নিয়ে এই যাত্রায় আমাদের পাশে থেকেছেন, তাঁরা হলেন—
সহ–সম্পাদক: শুভব্রত সরকার ও সহ–সম্পাদক: ঈষাণী বালা,
এক্সিকিউটিভ: প্রণব ভট্টাচার্য ও এক্সিকিউটিভ: নীলাঞ্জনা ভট্টাচার্য।
তাছাড়া, গত কিছু মাস ধরে আমাদের কাজের পথপ্রদর্শক হিসেবে যিনি অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন, তিনি হলেন Trustee Board-এর সদস্য এবং ম্যাগাজিনের পরামর্শদাতা Ms. তিয়াস রায়।
এই সংখ্যাটি প্রকাশে সহযোগিতা করেছেন Activism Social Science Club-এর সেক্রেটারি শ্রী সুরজিৎ রায়।
রিভিউয়ার হিসেবে যাঁরা তাঁদের মূল্যবান মতামত ও সময় দিয়ে আমাদের সমৃদ্ধ করেছেন, তাঁরা হলেন—
অধ্যাপক সুমনা দাস, শ্রীমতি সুচেতনা পাল, শ্রীমতি শ্রমণা চট্টোপাধ্যায় এবং শ্রীমতি রিয়া হালদার।
এই সকল মানুষের সম্মিলিত চেষ্টাতেই আজ ‘এক্কা–দোক্কা’ তার আগামী পদক্ষেপের পথে আরও এক ধাপ এগোতে পেরেছে। তবে, ভবিষ্যতের প্রতিটি ধাপেই আপনাদের সক্রিয় অংশগ্রহণ ও ভালোবাসা একান্ত কাম্যই শিশু – কিশোরদের মননশীল ভাবনার পায়ে পা মিলিয়ে এগিয়ে যাওয়ার স্বপ্ন দেখে ‘এক্কা – দোক্কা’।
যার মুখ্য কান্ডারী তো অবশ্যই ছোটোরা তবে তাদের ঢাল হয়ে ওঠার জন্য প্রয়োজন আপনাদের সকলকে।
আসুন একবার সারল্যকে সরল ভাবে ভেবে দেখি আমরাও।
ধন্যবাদান্তে ,
সম্পাদিকা: পৌলোমী ঘোষ
আমাদের কথা
অ্যাক্টিভিজম সোশ্যাল সায়েন্স ক্লাব (ASSC) হল অ্যাক্টিভিজম ফাউন্ডেশন ফর সোশ্যাল রিসার্চ অ্যান্ড অ্যাকশনের একটি প্রধান ইউনিট, যা ইন্ডিয়ান ট্রাস্ট অ্যাক্ট ১৮৮২ এর অধীনে নিবন্ধিত।
২০১৬ সাল থেকে, এই অনন্য অ্যাক্টিভিজম সোশ্যাল সায়েন্স ক্লাব সমাজের কল্যাণের জন্য সামাজিক বৈজ্ঞানিক জ্ঞান ছড়িয়ে
দিচ্ছে এবং গবেষণা–ভিত্তিক কার্যকলাপ এবং সৃজনশীল কর্মসূচির মাধ্যমে মানুষের জীবনে বাস্তব প্রভাব ফেলতে চেষ্টা করছে।
এটি দৈনন্দিন জীবনে উদ্ভূত বিভিন্ন ব্যবহারিক বিষয়ের উপর একাধিক কেস স্টাডি পরিচালনা করেছে, যার মধ্যে রয়েছে পারিবারিক নির্যাতন, অভিভাবকত্ব, অন্যদের যত্ন নেওয়া এবং আন্তঃব্যক্তিক সম্পর্ক।
এই কেস স্টাডির উদ্দেশ্য হল প্রতিক্রিয়াশীলদের সমস্যা সমাধানে সহায়তা করার জন্য গবেষণা-ভিত্তিক তথ্য এবং কৌশল সরবরাহ করা।
এছাড়াও, এটি ত্রুটিপূর্ণ সাধারণ জ্ঞানের (Common Sense)
বিরুদ্ধে লড়াই করতে এবং যৌক্তিক চিন্তাভাবনাকে উৎসাহিত করার জন্য “সাধারণ জ্ঞান এবং প্রতিদিনের ভুল ধারণা” (Common Sense and Everyday Misconception) নামক তার সৃজনশীল প্রচারণা প্রোগ্রামের মাধ্যমে বেশ কয়েকটি জ্ঞান–ভিত্তিক জাগরণমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করেছে।
যেমনটি সুপরিচিত, কলকাতায় অনেক প্রাকৃতিক বিজ্ঞান ক্লাব রয়েছে, কিন্তু শুধুমাত্র একটি সামাজিক বিজ্ঞান ক্লাব আছে, অ্যাক্টিভিজম সোশ্যাল সায়েন্স ক্লাব, যেখানে সামাজিক বিজ্ঞান অনুশীলনকারী এবং গবেষকদের একটি দল ব্যক্তিদের, বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে যুক্তিবাদ এবং সমালোচনামূলক চিন্তাভাবনা গড়ে তোলার জন্য কাজ করে, তাদের বর্তমান শিক্ষা ও সামাজিক ব্যবস্থায় যে সামাজিক বৈজ্ঞানিক জ্ঞানের অভাব রয়েছে তা প্রদান করে। কলকাতায় বেশ কয়েকটি সুপরিচিত বিজ্ঞান ক্লাব বা বিজ্ঞান মঞ্চ আছে কিন্তু শুধু মাত্র সোশ্যাল সাইন্স কে দৈনন্দিন জীবনে (everyday life) কার্যকরী করে তোলার উদ্দেশ্যে এক্টিভিজম সোশ্যাল সাইন্স ক্লাব এর প্রতিষ্ঠা। ই ম্যাগাজিনে “এক্কা – দোক্কা” হলো এক্টিভিজম সোশ্যাল সাইন্স ক্লাব এর একটি উদ্ভাবন যার উদ্দেশ্য হলো শিশু কিশোর মনের অব্যক্ত ভাষাকে সামনে তুলে ধরা। আমরা আশা রাখি যে এক্টিভিজম সোশ্যাল সাইন্স ক্লাব এর ছত্রছায়ায় আমাদের ই ম্যাগাজিন আরো দীর্ঘ পথ এগিয়ে চলবে খুদে
সদস্যদের সাথে নিয়ে।