শিশুমনের সৃজনের নতুন দিগন্ত — ‘এক্কাদোক্কা’র নবম সংখ্যা
“Children must be taught how to think, not what to think.”
— Margaret Mead
শৈশব বা কৈশোর মন স্পর্শকাতর , তারা স্বপ্ন দেখে, অনুভব করে, আবেগপ্রবণ হয়, সৃজনশীলতাকেও ধারণ করে কিন্তু তা যথাযথ বহিঃপ্রকাশ এর মঞ্চ সবসময় পেয়ে ওঠে না। কত না বলা অনুভূতি চাপা পড়ে যায় সিলেবাসের চাপে অথবা পারিপার্শ্বিক ঘেরাটোপে। স্তিমিত হয় অভিব্যক্তির দীপ্তি। সেই ক্ষীণপ্রভ প্রতিভাকে মর্যাদা দিয়ে, তাকে উজ্জাপন করার উদ্দেশেই আমাদের ই ম্যাগাজিন “এক্কা -দোক্কা ” এর এগিয়ে চলা। বেশ কিছু খুদে সদস্যদের সহযোগিতায় ও সক্রিয় অংশগ্রহণে প্রত্যেক বারের মতো এই বারেও “এক্কা -দোক্কা”এর নবম সংখ্যা পরিপূর্ণ ও সমৃদ্ধ হয়েছে।
এই সংখ্যায় যেমন রয়েছে প্রবন্ধ, গল্প ও কবিতা, তেমনই উল্লেখযোগ্য সংযোজন, তেমনি বেশ কিছু সুন্দর অঙ্কন. ছোট্ট শিল্পীদের রঙিন তুলিতে ফুটে উঠেছে তাদের নিজস্ব পৃথিবী। শব্দের পাশাপাশি রঙ ও রেখার মধ্য দিয়েও যে অনুভূতি প্রকাশ পায়, এই সংখ্যার পাতায় পাতায় তারই স্পষ্ট উপস্থিতি। একদিকে যেমন মনের জানালাতে ফুটে উঠেছে অনুশোচনার গভীর ওজন যা কেবল সংখ্যায় পরিমাপযোগ্য নয় আবার কেউ প্রকাশ করেছে নিজের প্রিয় পাখির প্রতি ভালোবাসা আবার স্কুল জীবনের মধুর স্মৃতি মনে করে নস্টালজিক হয়েছে খুদে মন। আবার কেউ প্রকাশ করেছে জন্মদিনের বিশেষ উপহারের গল্প। এই সকল খুদেদের কল্পনা, অনুভূতি, আনন্দ, নিরাশা – সব মিলিয়ে “এক্কা দোক্কা” আবার এগিয়ে চলেছে নিজের গতিতে।
তবে এটাও স্বীকার করতেই হয় যে ‘এক্কাদোক্কা’র অষ্টম সংখ্যা বাস্তবায়নে Activism Foundation-এর সকল সদস্য ও আজীবন সদস্যদের অবদান অপরিসীম। তাঁদের সহযোগিতায় আমরা বহু ছাত্র-ছাত্রীর কাছে পৌঁছাতে পেরেছি এবং তাদের শিল্পীসত্তাকে প্রকাশের সুযোগ করে দিতে পেরেছি।
শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত নিষ্ঠা ও আগ্রহ নিয়ে এই যাত্রায় আমাদের পাশে থেকেছেন মাননীয় সহ সম্পাদিকা মাননীয়া ঈশানি বালা , এক্সেকিউটিভ সমতা বল্লভ ও এক্সেকিউটিভ সন্দীপন ঘোষ। এছাড়াও Trustee Board-এর সদস্য ও ম্যাগাজিনের পরামর্শদাতা মাননীয়া তিয়াস রায় গত কয়েক মাস ধরে আমাদের কাজের পথপ্রদর্শক হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। এই সংখ্যা প্রকাশে সহযোগিতা করেছেন Activism Social Science Club-এর মাননীয় সেক্রেটারি সুরজিৎ রায়, এবং মাননীয় ভাইস প্রেসিডেন্ট তনয় দত্ত।
এই সকল মানুষের সম্মিলিত চেষ্টাতেই আজ ‘এক্কা- দোক্কা’ তার আগামী পদক্ষেপের দিকে আরও একধাপ এগোতে পেরেছে, তাই তাদের প্রত্যেকের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা রইলো।
আমরা বিশ্বাস করি “এক্কাদোক্কা’ কেবল একটি ই–ম্যাগাজিন নয়; এটি এক চলমান সংলাপ, যেখানে শিশুমন নিজের ভাষায় কথা বলতে পারে. আগামী দিনেও আরও বেশি সৃজন, আরও বেশি অংশগ্রহণ এবং আরও বেশি ভালোবাসা নিয়ে আমরা এগিয়ে যেতে চাই।
ধন্যবাদান্তে,
সম্পাদিকাঃ পৌলমী ঘোষ , ‘এক্কাদোক্কা’
আমাদের কথা
অ্যাক্টিভিজম সোশ্যাল সায়েন্স ক্লাব (ASSC) হল অ্যাক্টিভিজম ফাউন্ডেশন ফর সোশ্যাল রিসার্চ অ্যান্ড অ্যাকশনের একটি প্রধান ইউনিট, যা ইন্ডিয়ান ট্রাস্ট অ্যাক্ট ১৮৮২ এর অধীনে নিবন্ধিত, ২০১৬ সাল থেকে, এই অনন্য অ্যাক্টিভিজম সোশ্যাল সায়েন্স ক্লাব সমাজের কল্যাণের জন্য সামাজিক বৈজ্ঞানিক জ্ঞান ছড়িয়ে দিচ্ছে এবং গবেষণা–ভিত্তিক কার্যকলাপ এবং সৃজনশীল কর্মসূচির মাধ্যমে মানুষের জীবনে বাস্তব প্রভাব ফেলতে চেষ্টা করছে।
এটি দৈনন্দিন জীবনে উদ্ভূত বিভিন্ন ব্যবহারিক বিষয়ের উপর একাধিক কেস স্টাডি পরিচালনা করেছে, যার মধ্যে রয়েছে পারিবারিক নির্যাতন, অভিভাবকত্ব, অন্যদের যত্ন নেওয়া এবং আন্তঃব্যক্তিক সম্পর্ক। এই কেস স্টাডির উদ্দেশ্য হল প্রতিক্রিয়াশীলদের সমস্যা সমাধানে সহায়তা করার জন্য গবেষণা-ভিত্তিক তথ্য এবং কৌশল সরবরাহ করা।
এছাড়াও, এটি ত্রুটিপূর্ণ সাধারণ জ্ঞানের (Common Sense) বিরুদ্ধে লড়াই করতে এবং যৌক্তিক চিন্তাভাবনাকে উৎসাহিত করার জন্য “সাধারণ জ্ঞান এবং প্রতিদিনের ভুল ধারণা” (Common Sense and Everyday Misconception) নামক তার সৃজনশীল প্রচারণা প্রোগ্রামের মাধ্যমে বেশ কয়েকটি জ্ঞান–ভিত্তিক জাগরণমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করেছে।
যেমনটি সুপরিচিত, কলকাতায় অনেক প্রাকৃতিক বিজ্ঞান ক্লাব রয়েছে, কিন্তু শুধুমাত্র একটি সামাজিক বিজ্ঞান ক্লাব আছে, অ্যাক্টিভিজম সোশ্যাল সায়েন্স ক্লাব, যেখানে সামাজিক বিজ্ঞান অনুশীলনকারী এবং গবেষকদের একটি দল ব্যক্তিদের, বিশেষ করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে যুক্তিবাদ এবং সমালোচনামূলক চিন্তাভাবনা গড়েতোলার জন্য কাজ করে, তাদের বর্তমান শিক্ষা ও সামাজিক ব্যবস্থায় যে সামাজিক বৈজ্ঞানিক জ্ঞানের অভাব রয়েছে তা প্রদান করে।কলকাতায় বেশ কয়েকটি সুপরিচিত বিজ্ঞান ক্লাব বা বিজ্ঞান মঞ্চ আছে কিন্তু শুধু মাত্র সোশ্যাল সাইন্স কে দৈনন্দিন জীবনে (everyday life) কার্যকরী করে তোলার উদ্দেশ্যে এক্টিভিজম সোশ্যাল সাইন্স ক্লাব এর প্রতিষ্ঠা।
ই ম্যাগাজিনে “এক্কা – দোক্কা” হলো এক্টিভিজম সোশ্যাল সাইন্স ক্লাব এর একটি উদ্ভাবন যার উদ্দেশ্য হলো শিশু কিশোর মনের অব্যক্ত ভাষাকে সামনে তুলে ধরা। আমরা আশা রাখি যে এক্টিভিজম সোশ্যাল সাইন্স ক্লাব এর ছত্রছায়ায় আমাদের ই ম্যাগাজিন আরো দীর্ঘ পথ এগিয়ে চলবে খুদে সদস্যদের সাথে নিয়ে।