মনের-জানালা
আমার জীবন
জীবন মানে যে শুধু বেঁচে থাকা তা নয়। জীবন মানে জীবনের প্রতি মুহূর্তের মধ্যে বেঁচে থাকা। জীবন মানে জীবনের প্রতি পদক্ষেপে বেঁচে থাকা। এই জীবনে প্রতিনিয়ত নানা ধরনের ভাবনা আমাদের মনে আনাগোনা করে। তার মধ্যে ছোটবেলার অন্যতম প্রচলিত ভাবনা হলো “কবে বড় হব”। এই ভাবনা কোন সাধারণ ব্যক্তির মনে আসেনি এমন প্রসঙ্গ খুবই কম।
কিন্তু বাস্তবে যখন সত্যি সত্যি বড় হলাম তখন বুঝলাম যে ওই ভাবনার মধ্যে যে আবেগ ছিল বাস্তবে সত্যিই বড় হওয়ার মধ্যে সেই আবেগ নেই। কারণ এই জীবনের সবথেকে সোনালী মুহূর্ত হলো ছেলেবেলা। আজ আমি সেই ছেলেবেলার দোরগোড়ায় এসে দাঁড়িয়েছি। এখন মনে হয় ছেলেবেলায় ভালো ছিল। কারণ মনুষ্যজাতির অন্যতম বৈশিষ্ট্য হল তখন তার কাছে যা থাকে বা তখন সে যে পরিস্থিতির মধ্যে থাকে সেটাই তার কাছে মনে হয় এর থেকে অন্য কিছু হলে বোধ হয় ভালো হতো। মাধ্যমিক পাশ করে আজ আমি উচ্চমাধ্যমিক স্তরে পাঠরত। এখন এই সময় দাঁড়িয়ে যে জিনিসটার আমি সব থেকে বেশি অভাব অনুভব করছি তা হল ডিসেম্বর মাসের ছুটি।
সে ছুটি বোধ হয় আর কোনদিনও পাওয়া হবে না। আগে যে ছুটির অপেক্ষায় গোটা বছরটা অপেক্ষা করতাম এখন সে অপেক্ষার ইতি ঘটেছে।না আছে সেই ডিসেম্বরের ছুটি আর না আছে নতুন বছরে নতুন বই পাওয়ার আনন্দ। সবই এখন কেবল কিছু মিষ্টি স্মৃতি হয়ে রয়ে গিয়েছে।সবকিছু পিছনে ফেলে এসে আজ দাঁড়িয়েছি সেমিস্টার সিস্টেমের পড়াশোনার মধ্যে।
এতে পড়াশোনা পদ্ধতিগত দিক থেকে সহজ মনে হলেও সেই আবেগগুলো হারিয়ে যেতে বসেছি। কিন্তু অতীত নিয়ে ভাবলে চলবে না।স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যেতে হবে। শুধুমাত্র কোন কিছু পাওয়ার আশা নয় মনে থাকবে অজানাকে জানার ইচ্ছা। কারণ জানার কোন শেষ নেই। যত জানব ততই পৃথিবীটাকে আরো বিভিন্ন রূপে দেখতে পাবো। তাই অতীতকে পিছনে ফেলে বর্তমানকে সঙ্গে নিয়ে আজ ভবিষ্যতের দিকে গুটিগুটি পায়ে এগিয়ে যাচ্ছি।
Name: Neha Kalia
Class: XI
Age: 17
Institution: Gaighata High School
“নিঃসঙ্গতার দিনগুলো”
আমি যখন প্রথম শ্রেণীর ছাত্র,তখন আমার সব সময় একা মনে হতো।কারণ আমার স্কুলে কোনো বন্ধু ছিল না।স্কুলে গিয়ে সব সময় একটা বেঞ্চে এক কোণায় পরে থাকতাম।কেউ আমার সাথে কথ বলতনা।সবাই আমাকে জ্বালাতন করত, স্যার দেরকেও বলতে পারতাম না।
আর টিফিনে তো রোজ ফল দিত মা আমাকে তাই নিয়ে যেতাম স্কুলে তাই সবাই বলত যে ছি!
ফল খাচ্ছিস, ফল ছাড়া আর কিছু খাস না তুই আর বলতো যে ছি নোংড়া তাই আমি কোনো কোনো দিন বলতাম মা স্কুল যাবো না।
কিন্তু মা বলত আজকের দিনটা যা কালকে যাবি না।কিন্তু রোজ এরকম বলে নিয়ে যেতো,
আর একদিন তো স্কুল গেছি প্রথম বেঞ্চে জায়গা ফাকা ছিল সেখানে বস্ট গিয়েছি কিন্তু একটা ছেলে বলে যে ওই তুই এখানে বসছিস কেনো? পিছনে যা।আমি বললাম কেনো আমি বসতে পারি। সে বলল না ওটা আমার বন্ধুর জায়গা ।তোর জন্য না পেছনের বেঞ্চ ঠিক আছে।এখন আমার বয়স 12 বছর আমি ক্লাস 7 পড়ি। গত 3 বছর আমি অনেক পাল্টে গেছি এখন আমার অনেক বন্ধু। বলতে গেলে পুরো স্কুলটা এখন আমার বন্ধু। আমি পড়াশোনায় অনেক ভালো।
আমি এখন হাই স্কুলে পড়ি এখন,আগে যে স্যার এর সঙ্গে কথা বলতাম এখন আমি তার সঙ্গে কথা বলি। স্যার আমার নাম রেখেছে আর্টিস্ট।কেনো না আমি ভালো চবি আঁকি।এখন আমি অনেক বুঝতে শিখেছি।এখন কেউ কিছু বললে আমি তাকে সেরকমই বলেদি।তখন আমার মা আর বাবা ছিল আমার বন্ধু ,আমি কাউকে বুঝতে দেইনি।এখন আমি আমার মা বাবাকে মনের এই প্রকাশকে বুঝতে দেইনি বা প্রকাশ করি নি মনের মধ্যে চেপে রেখেছি বলতে পারিনি। 2016 সালে আমি গত 5 বছরের ক্লাস 1 পড়তাম।আমারছোটবেলা থেকে খরগোশ পোষার ইচ্ছাটা আমি প্রকাশ করতে পারি নি।
Name: Arghya Sardar
Class: VII
Agee: 12
Name: Kuliagarh Satish Ghosh High School
কিছু উপলব্ধি
সত্যিই ঠিক। আমাদের যত জ্বালা, আমরা না খুব ছোটো না বড়ো, আমরা এখন এক মাঝামাঝি বয়সের কিশোর-কিশোরী। আমরা অত ছোটাও নই যে সব কিছুতে ছাড় পেয়ে যাবো। আবার আমরা এত বড়োও হইনি যে অব্যাহতভাবে সব নিজ কাজ নিজের মনের মত করে করব। এই মাঝামাঝি ভাবটা সবচেয়ে মুশকিলের। তবে অনেক সময়ে তা নানাদিকে সুবিধাজনক। যেমন সম্পূর্ণ বড়ো না হওয়াতে ছেলেমানুষির ভাব এখনও আছে। এই কারণেই বড়োদের কাছে নিত্য ভুল ত্রুটির ছাড় পেয়েই যায়। আবার বড়োদের মতন এত দায়দায়িত্ব পোহাতে হয় না।
তবে ছোটোবেলা মনে হত যত তাড়াতাড়ি বড়ো হব তত ভালো। সবসময় বড়োদের শাসনে হাত, পা বেঁধে বসে থাকতে হবে না। তবে বড়ো হতে হতে বুঝলাম ছোটোবেলাটাই আনন্দে পরিপূর্ণ ছিল। পড়াশোনা তো কম করতেই হত এবং অবসরে অনেক কিছু করা যেত। তবে আমরা যতই বড়ো হয়ে যাচ্ছি, বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে লেখাপড়া ও ব্যস্ততার বৃদ্ধি ঘটছে।
তবে কেউ যদি আমায় জিজ্ঞাসা করে যে আমি ছোটো হতে চাই না বড়ো হতে চাই, সে আমায় উভয়সঙ্কটে তো ফেলবেই বরং এক ভাবনার অকূল পাথারে ভাসাবে। তবে, তবুও আমি ছোটোই হতে চাইবো। বড়ো তো হয়ে উঠতেই হবে একদিন এবং তা অনিবার্য। তা আটকানোর কোনো ক্ষমতাই নেই তবে–যদি একটু কটাদিন আরো একটু ছোটো হয়ে থাকা যেত তাহলে ভালো হত। ছোটোদের ভারি মজা, তারা হয়তো কোনো কাজ ঠিক করে করতে পারবে না এই ভয়ে গুরুজনরা তাদের উপর দায়িত্ব খুবই কম দেন। তবে তা ভালো, নিজের কাজ করে কল্পনার অলীক জগতে ঘুরে আসার সময় বেড়ে যায়। ছোটো হয়ে থাকলে তো পড়াশোনার কিছু তো অবকাশ পাবোই–তা বড়ো আনন্দদায়ক। এখন আমাদের এমন দুরবস্থা হয়েছে যে আকাশের দিকে চেয়ে একটু সময় কাটাবো বা তারা গুণে যাবো সেই অবকাশটাও বন্ধ। এই দুর্দশার মুখ্য কারণ তো লেখাপড়াই। ঘুম থেকে উঠে মায়ের পড়তে বসার আদেশ অমান্য করা দুঃসাধ্য। স্কুল আসাটা কিন্তু বেশ ভালো। পড়ার সঙ্গে বন্ধুদের সাথে গল্প আড্ডা হাসাহাসি লেগেই থাকে। বাড়ি ফিরে আবার পড়াশোনার বেড়ায় বেঁধে সন্ধ্যা থেকে রাত পর্যন্ত চলতে থাকে পাঠাভ্যাস।
তবে বেড়ার বাঁধন ঘোচে প্রত্যেক সপ্তাহে শনি–রবিবার করে। আঁকার স্কুলে কিছুটা সময় বার ও ওই দু‘দিন শৈথিল্যে কাটে। তবে ছোটো হলে এগুলো থেকে মুক্তি পেলেও বড়োদের শাসন হতে মুক্তি পাওয়ার জো নেই। খেলাধূলার সময়েও অনেকটা বেড়ে যাবে। পড়ার শেষে দাবা, ক্যারাম খেলার সময় বাড়বে। দুষ্টুমির, ভুলের ক্ষমাপ্রাপ্তি সহজেই হবে যা এখন সবসময়ে প্রত্যাশা করো দুঃসাধ্য। তবে আমরা খালি খালি দোষ দিয়েই থাকি পড়াশোনাকে। চাইলে ফাঁকা সময় বার করাই যায়, তবে অনেকেই অন্য দরকারহীন কাজে তাদের অবসর সময় নষ্ট করে।